ডিসকভারি চ্যানেল 'সুপারন্যাচারালিস্ট' নামের এই 'সুপার স্টুপিড' কিংবা 'সুপার ভুয়া' প্রগ্রামটা টেলিকাস্ট করেছিল ২০১১ সালের ২৯শে জুন।
ওরা দাবি করেছিল, নেপালের এই সন্যাসী নাকি শূন্যে ভেসে বেড়াতে পারে।
প্রগ্রামের হোস্ট ছিল Dan White নামের এক ম্যাজিশিয়ান। সে নেপালের এক রহস্যময় সন্যাসীর খোজে পাহাড়ী পথে ঘুরতে লাগল। পথে পথে সে অনেক ম্যাজিক দেখাতে লাগল। গায়েব থেকে কার্ড বের করা কিংবা সেটা গায়েব করে দেওয়া , নিজের জিহবা সুই দিয়ে ফুটো করে ফেলা, গলা ফুটো করে নেকলেস ভেদ করা, আঙুলের ইশারায় পূর্ণিমার চাঁদ কে অদৃশ্য করে দেওয়া ইত্যাদি অনেক ম্যাজিক দেখাল। এইগুলার ট্রিক সে রিভিল করেনাই, কিন্তু প্রতিবার বলেছে, এখানে কোনো অলৌকিক কারসাজি নাই।
কিন্তু সর্বশে, সন্যাসীকে শূন্যে ভাসতে দেখে সে দাবি করল, এখানে সুপারন্যাচারাল কোনো ঘটনা ঘটেছে, নরমাল কোনো ট্রিক নাই এখানে।
ড্যান হোয়াইট মূল সন্যাসীর কাছে গিয়ে তাকে অনুরোধ করেছিল শূন্যে ভেসে দেখাইতে। জবাবে, সন্যাসী অনুরোধ করল , দূরে গিয়ে বসেন। কাছে বসে থাকলে আমি শূন্যে উড়তে পারব না। ( কাছে থাকলে ট্রিক ধরে ফেলবে নাকি?
)
৪৩ মিনিটের ডকুমেন্টারি তে মাত্র ১ মিনিট (৪০ মিনিট থেকে ৪১ মিনিটে) সন্যাসী লেভিটেশন করেছিলেন। পদ্মাসন স্টাইলে, হাতে তসবি/জপমালা নিয়ে তিনি মন্ত্র পড়তে লাগলেন। ধীরে ধীরে তিনি মাটি থেকে প্রায় এক ফুট উপরে উঠলেন। তারপর আবার ধীরে ধীরে নেমে আসলেন মাটিতে।
এই এক মিনিট ক্যামেরার আচরন খুব রহস্যজনক। সন্যাসীর পিছনে একবার ও ক্যামেরা নিয়ে গিয়ে দেখেনি যে পেছনে কোনো মেশিনপত্র বা মেকানিজম দিয়ে ওকে উপরে উঠাচ্ছে কিনা।
উপস্থাপক ড্যান হোয়াইট দাবি করেছেন, সন্যাসীর এখানে কোনো ট্রিক নাই। পুরাটাই অলৌকিক ব্যাপার। বৌদ্ধ সন্যাসীর মিরাকল পাওয়ার।
২.
প্রফেশনাল ম্যাজিশিয়ানরা এমনভাবে শূন্যে ভেসে থাকার ম্যাজিক অনেক দেখায়। প্রধানত দুই উপায়ে তারা এভাবে শূন্যে ভাসে---
ক) জাদুকর দেয়ালের কাছাকাছি কোনো এক জায়গায় বসে। দেয়ালের পিছনে একটা চিকন প্লাটফর্ম থাকে। সেই প্লাটফর্ম এর উপরে বসে থাকে সন্যাসী। নিজের আলখাল্লা /কাপড়চোপড় দিয়ে ওর সাপোর্ট টা আড়াল করা রাখে। রুমে আলোর পরিমান কম থাকলে আরো সুবিধা।
PK সিনেমায় দেখা যায় একজন সন্যাসী লাঠির উপর ভর দিয়ে শূন্যে ভেসে আছে। পরে দেখা যায়, ওই লাঠির সাথে একটা বসার মত আরামদায়ক সিট কানেক্টেড, এবং সন্যাসী নিজের আলখাল্লা দিয়ে সেই সিটটা আড়াল করে রেখেছিল।
খ) দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, উপর থেকে চিকন তার/কেবল দিয়ে টার্গেটকে শূন্যে ভাসানো হয়। এত সূক্ষ তার খালি চোখে/ক্যামেরায় ধরা পড়েনা। দর্শক কাছ থেকে দেখলে, কিংবা ক্যামেরা অন্য এ্যাংগেল থেকে ধরলে এই তার ধরা পড়ে যাবে।
ডিসকভারির এই প্রগ্রামের ক্ষেত্রে আমার হাইপোথিসিস হচ্ছে - এখানে প্রথম উপায় টা অবলম্বন করা হয়েছে। সন্যাসীর পেছনে সলিড দেয়াল ছিল না। সেখানে পর্দা দেওয়া ছিল। সেই পর্দার পেছনে আলাদা রুম, আলাদা মেকানিজম এবং একাধিক এ্যাসিস্টান্ট/চ্যালা-চামুন্ডা লুকিয়ে ছিল। সন্যাসীর পাছার তলায় একটা লম্বা কাঠের/বাশের/মেটাল প্লাটফর্ম ছিল। পিছনে পর্দার আড়ালে ওর চামচারা ধীরে ধীরে সেই পাটাতন উপরে উঠিয়েছে। আবার নিচে নামিয়েছে।
যে মিনিট খানেক ও শূন্যে ছিল, তখন ক্যামেরা সন্যাসীর পিছনে নিয়ে গেলেই ওই প্লাটফর্ম টা ধরা পড়ত। কিন্তু ওরা সেই এক মিনিট ওর পিছনে ক্যামেরা নেয় নাই।
৪০ মিনিটের আগে ক্যামেরা কিন্তু সন্যাসীর সাইডে, প্রায় পিছন পর্যন্ত নিয়েছিল। কিন্তু এক্সাক্টলি ওই এক মিনিট সাইডে বা পিছনে ক্যামেরা নেয় নাই। শুধুমাত্র ফ্রন্ট ভিউ দেখিয়েছে।
ডিসকভারি অনেক ইনফর্মেটিভ, সায়েন্টিফিক শো করে। এ কারনে অনেকে ওদের সব কথা, সব প্রগ্রাম বিশ্বাস করেন। কিন্তু এইরকম সুপার স্টুপিড শো কে সত্য মনে করার কোনো উপায় নাই।
মাধ্যকার্ষন শক্তি উপেক্ষা করে কোনো মানুষ শূন্যে ভেসে থাকতে পারেনা। রুপকথায় এমন কারো কারো কথা শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে এমন কাউকে কোথাও পাওয়া যায়নি। ডিসকভারি চ্যানেল এই প্রগ্রামটার মাধ্যমে গুজব এবং কুসংস্কার ছড়াচ্ছে বলেই আমি মনে করি। আপনি কি ভাবছেন?
Thanks for reading: ওরা দাবি করেছিল, নেপালের এই সন্যাসী নাকি শূন্যে ভেসে বেড়াতে পারে।, Stay tune to get latest Blogging Tips.
