চাঁদ কিভাবে তৈরি হয়েছিল বা চাঁদ কি উপাদান দিয়ে তৈরি?। চাঁদ নিয়ে এরকম নানা ধরনের প্রশ্ন প্রাচীন কাল থেকে মানুষের চিন্তা ভাবনা ছিলো।বর্তমান টেকনোলজি সুবিধায় চাঁদ সহ মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু এবং ফ্যাক্ট সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পেরেছি।মহাবিশ্বের এত এত রহস্যময় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ফলে চাঁদের কথা মানুষ একদম ভুলেই গিয়েছি।আসলে চাঁদ যে কত মুল্যবান তা চাঁদ যখন থাকবে না তখন বুঝতে পারব।চাদ ৪০০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবিকে আবর্তন করে আসছে। আমাদের পৃথিবী থেকে চাঁদ ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূরে প্রতিনিয়ত আবর্তন করছে।আমরা অনেকেই জানি চাঁদ একটা প্রাকৃতিক সেটেলাইট। আর এই সেটেলাইট চাঁদকে আমরা সবাই সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবেই মানি।প্রায় চারশ মিলিয়ন বছর আগে, যখন চাঁদ ছিলো না তখনও পৃথিবীর অস্তিত্ব ছিলো এবং তখনও সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী আবর্তন করত।কিন্তু সেসময় পৃথিবী বাসযোগ্য অবস্থা ছিলো না অর্থাৎ কোনো জীবের অস্তিত্ব ছিলো না। চাঁদের উৎপত্তি হয়েছিল রহস্যময় ভাবে। ধারণা করা হয়, মঙ্গল গ্রহের সমান এক গ্রহ পৃথিবীর সাথে মহা সংঘর্ষ হয় যার ফলে পৃথিবীর কিছু অংশ চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরপাক খেতে থাকে এবং একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়।পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের প্রভাবে ছোট্ট একটি গ্রহের আকার ধারণ করে। যার সাইজ ছিলো পৃথিবীর প্রায় ৫০ ভাগের এক ভাগ। এবং সেটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে শুরু করে।বর্তমানে সেটিকে আমার চাঁদ বলে চিনি।যেটিকে বলা যেতে পারে একটা ভয়ঙ্কর কিছু হওয়ার পর ভালো কিছু। চাঁদ সৃষ্টির পরপরই পৃথিবীতে প্রানের আবির্ভাব হয়েছে যার কারনে বলা যেতেই পারে পৃথিবীর জীবসমগ্র সৃষ্টির জন্য চাঁদ দায়ী। চাঁদ নিয়ে অনেক কথাই বললাম চলুন মুল কথা শুরু করি।
যদি হঠাৎ করে চাঁদ_ধ্বংস হয়ে_যায় তখন পৃথিবীর উপর কি ইফেক্ট ফেলবে?
আসলে চাঁদ আমাদের আবহাওয়া, জলবায়ু কিংবা জোয়ার-ভাটা তৈরির জন্য দায়ী। পৃথিবীর যে অংশ দিয়ে চাঁদ প্রদক্ষিণ করে সেখানকার পানির উচ্চতা অন্য স্থানের পানির উচ্চতার চাইতে অনেক বেশি। এভাবে চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী পৃষ্ঠে সমুদ্রের পানি আটকে রাখতে সহযোগিতা করে।তবে সূর্যও জোয়ার-ভাটার পানি আটকে রাখে তবে তা চাদের তুলনায় অনেক গুন কম।সূর্য থেকেও চাদের আকর্ষণ চারশ গুন বেশি।চাঁদের কারনে সমুদ্রের পানির আকর্ষণ হওয়ার ঐ স্হানের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পায় যার ফলে জোয়ার ভাটা তৈরি হয়। এ কারনে চাঁদকে পৃথিবীর মহাজাগতিক চুম্বক ক্ষেত্র বললেও ভুল হবে না।
যাই হোক, চাঁদ যখন এপাশ থেকে পৃথিবীর সমুদ্রের পানিকে আকর্ষন করছে, তখন সে স্থানের পানি ফুলে অনেক বেশি উচ্চতা উঠছে। ঠিক বিপরীত পাশে সূর্য আরেকটু কম মহাকর্ষীয় আকর্ষন বলের সাহায্যে সেখানকার পানিও আকর্ষন করে। এতে করে দুদিক থেকে পানির ভারসাম্য ঠিক থাকছে। এখন কথা হলো যদি চাঁদ না থাকে তাহলে এই ভারসাম্য না থেকে শুধু সূর্যের আকর্ষনের কারনে এক পাশের পানি ফুলে উঠে বিশাল প্রায় ২৫০-৩০০ ফুট বড় ঢেউ হয়ে উঠবে। যার ফলে পৃথিবীতে প্রতিটি স্হানে হয়ে উঠবে ভয়াবহ সুনামি। যার থেকে রেহাই পাবে না পৃথিবীর উচ্চ উচ্চ স্হানও। তাহলে মনে করুন এ পরিস্থিতিতে মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখা যাবে কি? এছাড়াও পৃথিবীর ঋতুচক্র থাকবে না এর ফলে কখনো কোথায় হবে ৯০ ডিগ্রি আবার কোথাও -৫০ ডিগ্রি এবং ফলস্বরূপ পৃথিবীর মেরু বরফ গলে সমুদ্রের পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে মহা টর্নেডো সৃষ্টি হবে। গাছপালা ফসল ফলাদি সব ধ্বংসে পরিনত হবে সামদ্রিক অবস্থা ও পৃথিবীর ভারসাম্যের বিপর্যয় ঘটবে এক কথায় প্রানিজগত বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যা দেখার জন্য কেউ-ই প্রস্তুত নয়।এতোক্ষণ যাবৎ চাঁদ নিয়ে অনেক কথাই বললাম তবে শেষে যে প্রশ্ন আসে তা হলো চাঁদ কি আদৌও ধ্বংস হওয়া সম্ভব?
চাদ ধ্বংস হওয়া বা ধ্বংস করা সম্ভব। আমেরিকা চাঁদে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ পরিক্ষা জন্য ডিসিশন নিয়েছিল কিন্তু চাঁদের এই ভয়াবহ পরিনতির কথা চিন্তা করে প্রজেক্ট কেন্সেল করে দেয়।।
Thanks for reading: পৃথিবীর কি হবে,যদি হঠাৎ করে চাঁদ ধ্বংস হয়ে যায়?, Stay tune to get latest Blogging Tips.
