মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং ব্যক্তির মানসিক চাপ দূর করতে বা কমাতে সাহায্য করে । তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনােভাব বিকাশে সহায়তা করে ।
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং হল এক ধরনের সম্পর্ক বা Relationship যা বিশেষ ধরনের ভাবের আদান প্রদানের ( Communication ) মাধ্যমে হয়ে থাকে । মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং এর জন্য ভালোভাবে কথা শোনা খুবই দরকার ।
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং এ একজন আরেকজনকে সহায়তা করে আবার দলীয়ভাবে একজন আরেকজনকে সহায়তা করে । এই ধরনের সহায়তার জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করা খুবই জরুরী। মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং ব্যক্তিকে তার নিজের সমস্যা খুঁজে বের করতে ও তা ব্যাখা করতে সহায়তা করে । এটা এমন ধরনের কাজ যা কেবল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিই করতে পারেন ।
.
★ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং হল এক ধরনের সম্পর্ক
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং হল কাউন্সেলর ও সহায়তাগ্রহনকারীর মধ্যে এক ধরনের বিশেষ সম্পর্ক । কাউন্সেলর এক সময়ে যেমন একজনের সাথে এই সহায়তা প্রদানের সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন , তেমনি একই সাথে একটি দলের সবার সাথে এই সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন । অর্থাৎ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং একক বা দলীয় উভয়ভাবেই হতে পারে । কখনও দু ' জনকে একত্রে ' অথাৎ জোড়ায় বা Pair Counseling ও করা হয় ।
.
★ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং হল বিশেষ ধরনের ভাবের আদান প্রদান
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে সহায়তাগ্রহণকারী এবং কাউন্সেলরের মধ্যে বিশেষ ধরনের ভাবের আদান প্রদান বা Communication সংগঠিত হয় যেখানে কাউন্সেলরকে বুঝতে হয় সহায়তা গ্রহণকারী আসলে কি বলছেন এবং কি বােঝাতে চাচ্ছেন ।
.
★ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং এর জন্য ভালভাবে শােনা খুবই দরকার
.
কাউন্সেলরকে বিশেষ কিছু ব্যক্তিগত গুনাবলীর অধিকারী হতে হয় । তার মধ্যে ভাল শ্রোতা হওয়া অন্যতম । সহায়তগ্রহকারীর মধ্যে ইতিবাচক মনােভাব বাড়ানাের জনা কাউন্সেলরকে হতে হবে ইতিবাচক মনােভাবের অধিকারী , আত্মবিশ্বাসী , আত্ম - নিয়ন্ত্রনে সক্ষম , ভালো Cormurmunicator ইত্যাদি দক্ষতার অধিকারী । কাউন্সেলিং এ একজন আরেকজনকে সহায়তা করে । কাউন্সেলিং এ দলীয়ভাবে একজন আরেকজনকে সহায়তা করে ।
.
★ এই ধরনের সহায়তার জন্য গােপনীয়তা রক্ষা করা খুবই জরুরী
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে গােপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয় । মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় সহায়তগ্রহণকারী তার জীবনের এমন সব গোপন কথা বা চাপা আবেগের কথা কাউন্সেলকে বলেন যা কোনভাবেই অন্যকে বলা যায় না । এমন কি যে কথাগুলাে সাধারণভাবে সাদামাটা মনে হয় সেগুলােও সহায়তাগ্রহণকারীর জন্য যথেষ্ট গােপন ও জরুরী হতে পারে । তাই মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সিলিং এর ক্ষেত্রে পুরােপুরি গােপনীয়তা রক্ষা করাকে সহায়তা গ্রহণকারীর অধিকার বলা হয় । তবে কখনো কখনো পুরোপুরি গোপনিয়তা রক্ষা করা সম্ভব নয় কারণ সহায়তাকারী হয়তো এমন কথা আলাপ করে যা তার নিজের অথবা অন্যের মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে।
.
যেমন: অন্য কাউকে মারার পরিকল্পনা, কোন শিশুকে নির্যাতন করার অথবা আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা ইত্যাদি।এক্ষেত্রে যে পুরোপুরি গোপনিয়তা রক্ষা করা যাবেনা তা সহায়তা গ্রহণকারীকে মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিংয়ের সময় জানাতে হয়।
.
★ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং পদ্ধতি ক্ষমতায়নের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং মুলতঃ এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যা মানসিক চাপ দূর করার বা কমানাের জন্য ব্যবহার করা হয় । এই পদ্ধতি " Principle of Empowerment " বা ক্ষমতায়নের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত । এই চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল ব্যক্তির আত্নবিশ্বাস বাড়ানাে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনােভাব গড়ে তোলা ।
.
★ মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং ব্যক্তিকে তার নিজের সমস্যা খুঁজে বের করতে ও তা ব্যাখা করতে সহায়তা করে
.
মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় কাউন্সেলর নিজে সহায়তাগ্রহণকারীর সমস্যা খুঁজে বের করেন না বরং তাকে তার নিজের সমস্যা খুঁজে বের করতে ও ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করেন । সমস্যা বের করার পর কাউন্সেলর তা দূর করার বা কমানোর জন্য সহায়তাগ্রহণকারীকে সহায়তা করেন । কাউন্সেলর সহায়তাগ্রহণকারীকে ইতিবাচক মনােভাব ( Positive attitude ) গড়ে তুলতে ও অবিশ্বাস বাড়াতে নানাভাবে সহায়তা করেন ।
.
★ মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং এমন ধরনের কাজ যা কেবল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিই করতে পারেন
.
এই বিশেষ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যিনি ব্যবহার করেন তাকে অর্থাৎ কাউন্সেলরকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হয় । মনােবিজ্ঞান ও কাউন্সেলিং বিষয়ক তত্ত্বসমূহ , কাউন্সেলিং এর নানা কৌশল এবং কৌশলসমূহকে কার্যকর ভাবে প্রয়ােগ করা জানতে হয় ।
Thanks for reading: মনােবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং কি ? ( What is Psyhchological Counseling ? ) , Stay tune to get latest Blogging Tips.
